অনলাইন কেনাকাটায় আগ্রহ কমেছে

যুক্তরাজ্যে খুচরা দোকানে বিনিয়োগ বাড়ছে

যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রেতারা আবারো দোকানে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশটির সম্পত্তি খাতে।

যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রেতারা আবারো দোকানে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশটির সম্পত্তি খাতে। সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নাইট ফ্র্যাঙ্কের নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এ পুনরুত্থানের নেতৃত্ব দিচ্ছে শপিং সেন্টার ও খাদ্যপণ্যের দোকান। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

জনসমাগম বাড়ায় খুচরা বিক্রেতা ও সম্পত্তি খাতে বিনিয়োগকারীরা আবারো ফিজিক্যাল স্টোরে মূলধন ফিরিয়ে আনছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এটি শহরের প্রধান অঞ্চল ও শপিং সেন্টারগুলোর জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে।

এক দশক ধরে ব্রিটিশ খুচরা খাত কঠিন সময় পার করেছে। এর চূড়ান্ত পর্যায়ে কভিড মহামারীর সময় লকডাউনে অধিকাংশ দোকান বন্ধ হয়ে যায় এবং অনলাইন কেনাকাটার ব্যাপক উত্থান ঘটে।

তবে যুক্তরাজ্যে অনলাইনে খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি এখন থেমে গেছে। ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে অনলাইন বিক্রির হিস্যা ছিল সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ, এখন তা মোট খুচরা বিক্রির ২৬-২৮ শতাংশের মধ্যেই স্থির রয়েছে।

চলতি বছরে বাণিজ্যিকভাবে সম্পত্তি (প্রপার্টি) খাতের খুচরা বিক্রি অন্য সব খাতকে ছাড়িয়ে গেছে। নাইট ফ্র্যাঙ্ক জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে খাতটিতে বিনিয়োগে রিটার্ন হয়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ। এর তুলনায় শিল্পভিত্তিক সম্পত্তিতে রিটার্ন ছিল ৯ দশমিক ১ এবং অফিস ভবনে মাত্র ৩ দশমিক ২ শতাংশ।

রিটার্নের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে চলতি বছর শপিং সেন্টার ও খাদ্যপণ্যের দোকান শীর্ষে রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই রিটার্ন বেড়েছে ১০ দশমিক ২ শতাংশ।

দর্শনার্থী টানতে শপিং সেন্টারগুলো এখন দোকানের পাশাপাশি নানা ধরনের পরিষেবা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম যুক্ত করছে। নাইট ফ্র্যাঙ্ক বলছে, বড় শপিং সেন্টারগুলো তুলনামূলক ভালো করছে, তবে ছোট ও পুরনো মলগুলো চাপের মুখে পড়ছে। কারণ খুচরা চেইনগুলো এখন কম কিন্তু আকারে বড় দোকান পছন্দ করছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যে খুচরা সম্পত্তি খাতে বিনিয়োগ থেকে রিটার্ন ৯ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে।

নাইট ফ্র্যাঙ্কের রিটেইল ক্যাপিটাল মার্কেটস বিভাগের প্রধান উইল লান্ড বলেন, ‘অনলাইনের কেনাকাটা থেমে যাওয়া এবং খুচরা বিক্রেতাদের আবার ফিজিক্যাল জায়গায় বিনিয়োগ এ দুইয়ের ফলে খুচরা খাতকে ঘিরে গল্পটাই বদলে গেছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ চাহিদাই ২০২৬ সালে এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের পরিমাণে ফেরত নিয়ে যাবে। সামনে একটি ব্যস্ত বছর দেখছি।’

গত নভেম্বরে সম্পত্তি খাতের প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডসেকের প্রধান নির্বাহী মার্ক অ্যালান জানিয়েছিলেন, খুচরা খাত দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত বলে বিবেচিত ছিল। পরবর্তী ১২-১৮ মাসে আরো বেশি সম্পত্তি কেনার দিকে অগ্রাধিকার দেবেন তারা।

ল্যান্ডসেকের মালিকানায় রয়েছে কেন্টের ব্লু ওয়াটার ও ট্রিনিটি লিডসের মতো বড় শপিং সেন্টার। খুচরা ও আবাসিক খাতে ঝুঁকতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে ২৯ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের অফিস সম্পত্তি বিক্রি করেছে। আগামী বছরের শুরুতে গ্লাসগোর কাছে সিলভারবার্ন শপিং সেন্টার প্রায় ২৫ কোটি পাউন্ডে কেনার আলোচনা করছে।

আরেক বড় ডেভেলপার ব্রিটিশ ল্যান্ড মূলত লন্ডনের অফিস ক্যাম্পাস ও রিটেইল পার্কে নজর দেয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী সাইমন কার্টার বলেন, ‘অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি বাড়ছে। শহরের বাইরে খুচরা বিক্রেতারা সম্প্রসারিত হচ্ছে। আর দুই বাজারেই সরবরাহ খুবই সীমিত।’

চলতি বছরে যুক্তরাজ্যে বেশ কয়েকটি শপিং সেন্টারের মালিকানা বদল হয়েছে। একই সঙ্গে সুপারমার্কেট ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দোকানগুলো সেল-অ্যান্ড-লিজব্যাক লেনদেন বাড়িয়েছে।

নাইট ফ্র্যাঙ্ক বর্তমানে ডাডলির কাছে মেরি হিল শপিং সেন্টার বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে। তারা আশা করছে, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের কমপ্লেক্সটি প্রায় ৩০ কোটি পাউন্ড দাম পাবে।

নাইট ফ্র্যাঙ্কের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে খুচরা সম্পত্তিতে মোট ৫৮০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ হয়েছে। সম্পত্তির স্বল্পতার কারণে এটি আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম, তবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে লেনদেনের গতি বেড়েছে। দাম বাড়তে থাকায় এ গতি ২০২৬ সালেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও